fbpx

লিবিয়ায় নিহতদের পরিচয় মিলেছে

লিবিয়ায় মানব পাচারকারী চক্রের হাতে ২৬ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস। ঐখানে মোট ৩৮ জন বাংলাদেশি ও কয়েকজন সুদানি নাগরিক প্রায় ১৫ দিন ধরে ওই অপহরণকারী চক্রের হাতে আটক ছিলেন। যারমধ্যে মারা যাওয়া ২৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক।

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলি থেকে ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণের শহর মিজদায় আটক করে রাখা হয়েছিল তাদের। সেখানেই ২৮শে মে সকালে বন্দীদের ওপর গুলি চালায় অপহরণকারীরা। মূলত ইতালিতে অভিবাসনের উদ্দেশ্যে ঐ ৩৮ জন বাংলাদেশি লিবিয়ায় গিয়েছিলেন। তবে লিবিয়ার সরকার জানিয়েছে, লিবিয়ার এক মানব পাচারকারীকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ২৬ জন বাংলাদেশিসহ ৩০ জন অভিবাসন প্রত্যাশীকে হত্যা করেছে ঐ পাচারকারীর পরিবারের সদস্যরা। বাংলাদেশি ছাড়াও এতে মারা যান ৪ জন আফ্রিকান বংশোদ্ভূত। খবর বিবিসির।

নিহত ২৬ বাংলাদেশির মধ্যে ২৩ জনের পরিচয় প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। নিহতের বেশিরভাগেরেই গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলায়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো তালিকায় দেখা গেছে, ২৩ জনের মধ্যে ১১ জনের বাড়িই মাদারীপুর জেলায়। এর মধ্যে ভৈরব উপজেলার ৫ জনসহ সাতজনের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। বাকিদের বাড়ি যশোর, ঢাকা, মাগুরা, গোপালগঞ্জ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিজদাহে বর্বোরোচিত হামলায় আহতদের সঙ্গে কথা বলে প্রাপ্ত তথ্য থেকে নিহত সম্ভাব্য বাংলাদেশিদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। আহতরা জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে মোট ৩৮ জন বাংলাদেশি জিম্মি ছিলেন। সেখান থেকে তারা নিহত ২৩ জনের পরিচয় জানতে পেরেছেন। বাকি তিনজনের বিষয়ে দূতাবাসের পক্ষ থেকে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

যাদের পরিচয় জানা গেছে তারা হলেন: মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার- বিদ্যানন্দীর জুয়েল, মানিক, একই জেলার টেকেরহাটের- আসাদুল, আয়নাল মোল্লা, মাদারীপুরের- জাকির হোসেন, জুয়েল-২, টেকেরহাটের- মনির, রাজৈরের ইশবপুরের- মনির, সজীব, মাদারীপুরের- ফিরোজ, মাদারীপুরে দুধখালীর- শামীম, ঢাকার- আরফান, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের- রহিম, ভৈরবের- রাজন, শাকিল, ভৈরবের শ্রীনগরের- সাকিব মিয়া, ভৈরবের রসুলপুরের- আকাশ, ভৈরবের- সোহাগ, মো. আলী, গোপালগঞ্জের- সুজর, কামরুল, যশোরের- রাকিবুল, মাগুরার মোহাম্মদপুরের- বিনোদপুর নারায়নপুরের লাল চান্দ।

আহত বাকি ১১ জন ত্রিপলির একটি হসপিটালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

Facebook Comments