fbpx

দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে ‘আইসিসিবি’তে করোনা হাসপাতাল নির্মাণ কাজ

দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে করোনা হাসপাতালের নির্মাণ কাজ। আজ শুরু করে আগামীকালের মধ্যেই দেড় লাখ বর্গফুট জায়গায় বসাতে হবে পিভিসি ফ্লোরম্যাট। এরপরই সাজানো শুরু হবে  রোগীর বেড, ফার্নিচার, আগে থেকে তৈরি করে রাখা চিকিৎসক ও নার্সদের বহনযোগ্য কক্ষগুলো। করোনা আক্রান্তের চিকিৎসায় দেশের বৃহত্তম হাসপাতালে রূপ নেবে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি, বসুন্ধরা (আইসিসিবি)।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশের এই ক্রান্তিকালে এগিয়ে এসেছে বসুন্ধরা গ্রুপ। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ১০ কোটি টাকা দেওয়ার পাশাপাশি আইসিসিবি-কে পাঁচ হাজার শয্যার করোনা হাসপাতালে রূপান্তরের প্রস্তাব দেয় বসুন্ধরা গ্রুপ। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সেনাবাহিনীর একটি দল আইসিসিবি পরিদর্শন করে। পরে এটাকে অস্থায়ী হাসপাতাল বা আইসোলেশন সেন্টার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কোভিড-১৯ বিপর্যয় শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং সরকারের যত দিন ব্যবহারের প্রয়োজন শেষ না হবে তত দিন আইসিসিবিকে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এখানে দুই হাজার ৭১ শয্যার অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরির জন্য কাজ শুরু করেছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুল আলম বলেন, আইসিসিবির ট্রেড সেন্টারটি দেড় লাখ স্কয়ার ফুটের। অনেক বড় জায়গা। চেষ্টা করছি আজকের মধ্যেই পিভিসি ফ্লোরম্যাট বসানোর কাজ শেষ করতে। আজকের মধ্যে না পারলে আগামীকালের মধ্যে শেষ করব ইনশাআল্লাহ। এরপরই ডক্টর চেম্বার, নার্স চেম্বার, ওয়ার্ক স্টেশন এগুলো লে-আউট করে ফার্নিচার বসানো শুরু করব। নির্ধারিত সময়ের আগেই হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী।

আইসিসিবির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এম এম জসীম উদ্দিন বলেন, লকডাউন পরিস্থিতিতে মালামাল আনা, শ্রমিক আনা কঠিন ব্যাপার। তারপরও এই কয়দিনে হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ যে পর্যায়ে এসেছে তা সন্তোষজনক। ডক্টর ও নার্সদের বহনযোগ্য কক্ষগুলো তৈরি করে একপাশে রাখা হয়েছে। পিভিসি ম্যাট বসানো হলেই এগুলো এনে সেটআপ করা হবে। ১৬শ টন এয়ারকন্ডিশনার বসানো হয়ে গেছে। এগুলোয় বিদ্যুৎ সরবরাহ দিতে আড়াই হাজার কেভিএর একটি সাবস্টেশন বসানো হয়েছে। জেনারেটরও বসানো হয়েছে। সর্বোচ্চ তিন-চার দিনের মধ্যে হাসপাতাল পরিচালনের উপযোগী হবে বলে আশা করছি।

জসীম উদ্দিন আরও বলেন, ‘দিন দিন করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এই হাসপাতাল সময়ের প্রয়োজন ছিল। যা বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান মহোদয় বুঝতে পেরেছিলেন। সেজন্যই তিনি আইসিসিবিকে করোনা হাসপাতালে রূপান্তরে সরকারকে প্রস্তাব দেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই হাসপাতালটি দৃশ্যমান করতে চলছে নিরলস পরিশ্রম। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধানে নিয়মিত নির্মাণকাজ তদারকি করছেন অধিদফতরের একাধিক প্রকৌশলী। সঙ্গে থেকে সহযোগিতা করছেন বসুন্ধরার প্রকৌশলীরা।

হাসপাতাল তৈরিতে সম্পৃক্ত স্বাস্থ্য প্রকৌশলীরা বলছেন, আইসিসিবির এক্সপো জোনকে ছয়টি ক্লাস্টারে ভাগ করে প্রতি ক্লাস্টারে ২৮৮টি করে শয্যা স্থাপন করা হবে, যাতে মোট এক হাজার ৪৮৮ শয্যা স্থাপিত হবে। আর চারটি কনভেনশন হলে নির্মিত হবে ৫৬৪ শয্যা। জরুরি ও গুরুতর রোগীর জন্য থাকবে আইসিইউ সাপোর্ট। সিসি ক্যামেরাও স্থাপন করা হবে, যেন রোগীকে সার্বক্ষণিক মনিটর করতে পারেন চিকিৎসক ও নার্সরা। এছাড়া  গাড়ি পার্কিং থেকে শুরু করে নানামুখী সুবিধার এই কনভেনশন সেন্টারে রোগীদের চিকিত্সার পাশাপাশি খাবারের ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

Facebook Comments