fbpx

স্বল্প সুদে ঋণ পাবেন রপ্তানিকারকরা

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়ানো এবং রপ্তানিকারকদের সহযোগিতা করতে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্যাকেজের তাওতায় সুবিধা বাড়ালো কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাক টু ব্যাক এলসি ছাড়াও বাল্ক পরিমাণে কাঁচামাল আমদানির জন্য বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ পান। ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইডিএফ থেকে ঋণ নিয়ে সেই অর্থ রপ্তানিকারকদের দিয়ে থাকে। এ তহবিলের সুদের হার সাধারণ ঋণের সুদের হারের চেয়ে বেশ কম বলে রপ্তানিকারক এই ফান্ড থেকে ঋণ নিতে চান। সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়, এই তহবিলের বিদ্যমান সুদহার লন্ডন আন্তঃব্যাক সুদহারের (লাইবর রেট) সঙ্গে অতিরিক্ত দেড় শতাংশ। তাতে এখন প্রায় ২ দশমিক ৭৩ শতাংশের মতো সুদ দিতে হয় সুবিধাভোগীদের। এখন সেই সুদের
হার ২ শতাংশে নামিয়ে আনা হলো।

নভেল করোনাভাইরাসের অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবেলায় রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ সুবিধা দিতে বিদ্যমান রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) আকার ৩৫০ কোটি ডলার থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়েছে। এতে নতুন করে ইডিএফ তহবিলের যোগ হলো‌ ১৫০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। শুধু তহবিলের আকারে নয়, এ তহবিলের সুদের হারও কমিয়ে ২ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। ১ এপ্রিল থেকে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, ইডিএফ ঋণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান লাইবর প্লাস দেড় শতাংশ সুদের মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো পেত ১ শতাংশ, আর বাংলাদেশ ব্যাংক পেত লাইবর প্লাস দশমিক ৫ শতাংশ। এখন সুদের হার ২ শতাংশ নামে আনার ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংক পাবে ১ শতাংশ, আর বাংলাদেশ ব্যাংক পাবে এক শতাংশ। এর আগে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় ৫টি প্যাকেজের আওতায় মোট ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। যা জিডিপির ২ দশমিক ৫২ শতাংশ। এর মধ্যে অন্যতম ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) সুবিধা বাড়ানো।

Facebook Comments