fbpx

ঘরে বসেই করোনার ঝুঁকি পরীক্ষার ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন উদ্বোধন করলেন পলক

আজ সোমবার দুপুরে নভেল করোনাভাইরাস বা কোভিড-19 মোকাবেলায় প্রযুক্তি উদ্বোধন সম্পর্কিত একটি অনলাইন সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠানে মাননীয় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, কোভিড-১৯ বা নভেল করোনাভাইরাস একটি বৈশ্বিক মহামারীতে পরিণত হয়েছে। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মানব সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই ভাইরাস মোকাবেলায় অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ সরকারও সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সরকারের সকল মন্ত্রণালয় এক সাথে কাজ করছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হচ্ছে, দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এই দুর্যোগকালীন সময়ে দেশের মানুষের পাশে থাকতে আমরা বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

তিনি আরও বলেন, কোভিড-১৯ বা নভেল করোনাভাইরাস সারা বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে যে নাজুক পরিস্থিতি তৈরি করেছে, সেই সকল সংবাদের প্রেক্ষিতে খুব স্বাভাবিকভাবেই আমাদের দেশের মানুষরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। কিন্তু আতঙ্ক দিয়ে কখনও পরিস্থিতি মোকাবেলা করা যায় না। এই মুহূর্তে প্রয়োজন হচ্ছে স্বাভাবিক থেকে, মাথা ঠান্ডা রেখে এই দুর্যোগকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের করনীয়গুলো করে যাওয়া।

প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও বলেছেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর বিশেবজ্ঞদের সহায়তায় একটি অনলাইন টেস্ট টুল নামক সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। এর সাহায্যে যে কেউ নিজে নিজেই তার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবার ঝুঁকির মাত্রা মূল্যায়ন করতে পারবেন। একই সাথে ব্যক্তি উক্ত ঝুঁকিতে তার করনীয় সম্পর্কেও জানতে পারবেন ।

এই টুলটি নির্মাণের দুটি উদ্দেশ্য আছে। এক, ঝুঁকির মাত্রা সাপেক্ষে সাধারণ মানুষদের ভেতরে উদ্বেগ কমিয়ে তাঁর করনীয় সম্পর্কে দিক নির্দেশনা প্রদান করা । দুই, ব্যবহারকারীদের স্বপ্রনোদিত হয়ে প্রদান করা ডেটা থেকে তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে চিহিন্ত করা এবং সেই সকল এলাকায় পর্যাপ্ত সহযোগিতা পৌঁছানো। প্রাপ্ত এই সকল ডেটাকে ভবিষ্যতে প্রযুক্তির সাহায্যে নানা ধরনের বিশ্লেষণ, বিগ ডেটা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা হবে।

https://www.livecoronatest.com/ লিংক থেকে বাংলাদেশের যেকোন প্রান্ত থেকে যেকেউ অনলাইনে তার নিজের ব্যক্তিগত ঝুঁকি টেস্ট কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন বলে জানান মাননীয় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশ ১৭ কোটি মানুষের দেশ। আমাদের রিসোর্সও অপ্রতুল। আবার পরিস্থিতির কারণে এই মুহূর্তে সকল প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ রাখতে হয়েছে। এই অবস্থায় প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিই হতে পারে সবচেয়ে নির্ভরেযোগ্য পন্থা । আমরা সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েছি। আমরা মানুষকে নভেল করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ সম্পর্কে সর্বশেষ ও হালনাগাদ তথ্য জানানোর জন্য একটি বট তৈরি করেছি।

http://m.me/ictdivisionbd লিংক থেকে বাংলাদেশের যেকোন প্রান্ত থেকে যেকেউ করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন বলে জানিয়েছেন মাননীয় প্রতিমন্ত্রী।

নভেল করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী অনেক বিষয়কেই নাড়া দিয়েছে এবং সকলের সবকিছু নিয়ে নতুন করে ভাবনার দাবী তুলেছে। তারই প্রেক্ষিতে এই ধরনের বড় বড় জাতীয় সমস্যায় এক সাথে কাজ করার জন্য “কল ফর নেশন” নামে একটি প্লাটফর্ম গড়ে তোলা হয়েছে। এই প্লাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবেলায় যারা বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন, তাদেরকে একত্রিত করা হবে ।

বর্তমানে ন্যাশনাল কল প্লাটফর্ম থেকে “এক্ট কোভিড-১৯” নামে একটি ক্যাম্পেইন চালু করা হবে। এদেশের যেসকল তরুণরা কোভিড-১৯ ভাইরাস সংক্রমণের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবেলায় কাজ করছেন, এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে তাঁদেরকে একজোট হবার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জানান, এক্ট কোভিড-১৯ ক্যাম্পেইন এ আগামীকাল ৩১ মার্চ থেকে শুর করে ৭ই এপ্রিল অংশগ্রহণ করা যাবে । প্রথম পর্যায়ে আমরা তরুণ উদ্ভাবক, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং বিজ্ঞানীদেরকে আহ্বান জানাচ্ছি অংশগ্রহণের জন্য । এই পর্যায়ে সফটওয়্যার টেকনোলজি ও এপ্রতপিয়েট টেকনোলজি বা লাগসই প্রযুক্তি এই দুটি ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণ করা যাবে।

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নির্বাচিত ১০টি উদ্ভাবন, প্রযুক্তি বা কাজকে আমরা এই “কল ফর নেশন, প্লাটফর্মের সাহায্যে সকল ধরনের সহযোগিতা প্রদান করব। প্রয়োজনীয় সিড ফান্ড, কাঁচামালের যোগান বা এই ধরনের উদ্যোগকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত করার সকল উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

http://callfornation.com/ লিংক থেকে কল ফর নেশন প্লাটফর্মে অংশগ্রহণ করা যাবে।

এছাড়াও, বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতিতে প্রবাসী ভাইদের জন্য ওয়ানস্টপ তথ্যসেবা প্রদানকারী ওয়েব পোর্টাল “প্রবাসী হেল্পলাইন” চালু করা হয়েছে। প্রবাসীদের যেকোন সমস্যার সঠিক সমাধানের ভেরিফাইড তথ্য পাওয়া যাবে একটি ঠিকানায়। এখানে করোনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য, করোনার লক্ষণ, প্রতিকারসমূহ ও চিকিৎসা সেবা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে।

প্রবাসী হেল্পলাইনের মাধ্যমে বর্তমানে প্রবাসী বাংলাদেশীরা করোনাভাইরাস সংক্রান্ত তথ্য ও জরুরি সেবা পেতে https://www.probashihelpline.com এই লিংকে ভিজিট করুন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় প্রযুক্তিগত দিক থেকে যা যা করনীয়, তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ তা করার চেষ্টা করছে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে পৃথিবীব্যাপী সকল মানুষের পরস্পরের সংহতি ও সহযোগিতা ছাড়া কারো পক্ষে একক ভাবে এই পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটানো সম্ভব নয়। আমার পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করছি এবং জনগেণকে আহ্বান জানাচ্ছি, সরকারকে সহযোগিতার জন্য । ভবিষ্যতে আমরা আরো অনেক বিষয় যোগ করব, যা সাধারণ মানুষের কাজে লাগবে।

Facebook Comments