fbpx

শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে ঝিনাইদহ জেলায় ২৬জন সফল সর্বোচ্চ উপার্জনকারী ফ্রিল্যান্সারদের হাতে ল্যাপটপ তুলে দিলেন জেলা প্রশাসক

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ সরকারের তথ্য ও গণযোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন “লার্নিং এন্ড আর্নিং ডেভলপমেন্ট” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় অনলাইন প্রফেশনাল আউট সোর্সিং প্রশিক্ষণে সফল ফ্রিল্যান্সারদের অনলাইন মার্কেটপ্লেস থেকে সর্বোচ্চ উপার্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়েছে। 

সোমবার সকালে জেলা শিশু একাডেমীর সম্মেলন কক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ট পুত্র শেখ রাসেলের জন্ম দিবস উপলক্ষে জেলার ২৬জন সফল ফ্রিল্যান্সার উপার্জনকারীর মধ্যে এই ল্যাপটপ বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক মোঃ মজিবর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ আব্দুল হাই, সংসদ সদস্য ঝিনাইদহ-১, পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সালমা সেলিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ সেলিম রেজা পিএএ, জেলা আইসিটি কর্মকর্তা মিহির কুমার মিত্র, প্রোজেক্ট ম্যানাজার আইউব নবীসহ পুরস্কার প্রাপ্ত ফ্রিল্যান্সারগণ। 

জেলা আইসিটি কর্মকর্তা মিহির কুমার মিত্র জানান, করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের আয়বর্ধনে মনোযোগী করে আয়ের সুযোগ করে দেয়ার লক্ষ্যে সরকাররের নেয়া উদ্যোগে জেলার ৫শত ফ্রিল্যান্সার ২০০ঘন্টা করে প্রশিক্ষণের সুযোগ পান। ১জন ট্রেইনার ৫০জনকে এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক্স, ওয়েভ ডিজাইন ডেভলপমেন্ট এর উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে ফ্রিল্যান্সাররা তাদের আয় শুরু করেন। ফ্রিল্যান্সারদের কাজে উৎসাহ বৃদ্ধিতে সরকার সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী ৫০জনকে ল্যাপ্টপ উপহার দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ২৬জনকে ২৬টি ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়। 

ইজি টেকনোলজি লিমিটেডের প্রোজেক্ট ম্যানেজার আইউব নবী জানান- উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই সরকারের এই প্রচেষ্ঠা যা ইতিবাচক হিসেবে দৃশ্যমান। তিনি আরো জানান- জেলার ৫শত জনের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ উপার্জনকারী ২৬জনকে উৎসাহ প্রদানে এই ল্যাপটপ প্রদান প্রশংসার দাবী রাখে। 

ঝিনাইদহ জেলার সর্বোচ্চ উপার্জনকারী ফ্রিল্যান্সার সুমাইয়া দিকদের জানান- এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি বিধায় মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে আমি নিজে ১৫হাজার ৪শত ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছি। যা অভাবনীয় এবং অবিশ্বাস্য। 

তিনি জানান, জেলার আরো যেসব ফ্রিল্যান্সাররা উপার্জনের লক্ষে কাজ করে ইতিমধ্যে ভাল টাকা উপার্জন করে তাদের পরিবারের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সুমাইয়া জানান- আমার উপার্জনের মাধ্যমে পুরো পরিবারে স্বচ্ছলতা এসেছে। আমি ফ্যিল্যান্সার হিসেবে নিজেকে যোগ্য করে তোলায় আমি এই পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সক্ষম হয়েছি।

ঝিনাইদহ সরকারী কলেজের অনার্স ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী সাব্বির আরো জানান- ইংরেজীতে দক্ষতা অর্জন এই ব্যবসার মূলধন। যে যতভাল ইংরেজী বলতে পারবে এবং কাজের পরিস্থিতি বুঝতে পারবে সেই ভাল ফলাফল অর্জনে সক্ষম হবে। আজ স্বীকৃতি স্বরুপ ল্যাপটপ পাওয়াতে আমি খুশি। 

ফ্রিল্যান্সার আকাশ জানান- আমি এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে ইতিমধ্যে বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছি। তাছাড়া আমাদের সাথে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী সকলেই কমবেশি ভাল উপার্জনের মাধ্যমে পরিবারকে স্বচ্ছলতায় ফিরিয়ে আনতে পেরেছে যা ইতিবাচক। 

Facebook Comments