fbpx

বিধিনিষেধেও সচল পুঁজিবাজার

ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ঈদুল আজহার পর আবারও কঠোর বিধিনিষেধ ঘোষণা করে সরকার। এরমধ্যেই চলমান ছিল দেশের পুঁজিবাজারের লেনদেন। আলোচিত সপ্তাহে (২৫ থেকে ২৯ জুলাই) ব্রোকারেজ হাউজ এবং স্টক এক্সচেঞ্জগুলোতে অর্ধেক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে লেনদেন হয়েছে।

বিধিনিষেধে বিনিয়োগকারীদের সশরীরে উপস্থিত না হয়ে বিকল্প উপায়ে লেনদেন করতে নির্দেশনা দেওয়া হয় স্টক এক্সচেঞ্জ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে। ফলে এ সময় ব্রোকার হাউজগুলোতে উপস্থিতি ছিল না বিনিয়োগকারীদের।

বিদায়ী সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে রোববার (২৫ জুলাই) সূচক বৃদ্ধির পর সোম ও মঙ্গলবার (২৬ ও ২৭ জুলাই) দুই দিনই বাজারে দরপতন হয়। পরে বিএসইসির পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ায় ইতিবাচক প্রবণতায় ফিরে আসে দেশের পুঁজিবাজার। সবমিলে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক আগের সপ্তাহের চেয়ে ২০ পয়েন্ট বেড়েছে। সূচকের পাশাপাশি বেড়েছে লেনদেন ও বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দামও। তবে কমেছে বাজার মূলধন। একই অবস্থায় লেনদেন হয়েছে অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও।

ডিএসইর তথ্য মতে, বিদায়ী সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসইতে মোট ৭ হাজার ১২৮ কোটি ৬৭ লাখ ৫ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছে। যা আগের সপ্তাহের চেয়ে চার হাজার কোটি টাকা বেশি।

এর আগের সপ্তাহের দুই কার্যদিবসে লেনদেনে হয়েছিল ৩ হাজার ৫৭ কোটি ৫২ লাখ ১৬ হাজার টাকা। সেই অংকে গত সপ্তাহের গড় হিসেবে কম লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহের গড় হিসাবে দিনে ১৫শ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। আর বিদায়ী সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ১৪শ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের মধ্যে ১শ কোটি টাকা দিনে কম লেনদেন হয়েছে।

বেশির ভাগ শেয়ারের দাম বাড়ায় ডিএসইর প্রধান সূচক আগের সপ্তাহের চেয়ে ১১৭ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৪২৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস শরীয়াহ সূচক আগের সপ্তাহের চেয়ে ৫ পয়েন্ট এবং ডিএস-৩০ সূচক ১৪ পয়েন্ট বেড়েছে।

বেশিরভাগ শেয়ারের দাম ও সূচক বাড়ার পরও ডিএসইতে বিদায়ী সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের পুঁজি বা বাজার মূলধন ৭৮০ কোটি ৪৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা কমে ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪০৪ কোটি ৮০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর আগের সপ্তাহে বাজার মূলধন ছিল ৫ লাখ ৩৫ হাজার ১৮৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ২৫৯ কোটি ৭৪ লাখ ৬৪ হাজার ২০৫ টাকা। এর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ১১৫ কোটি ৯৪ লাখ ৪৭ হাজার ৭২৮ টাকা। অর্থাৎ আগের সপ্তাহের চেয়ে লেনদেন বেড়েছে।

লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৪৬টির, কমেছে ১৬৬টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। এর আগের সপ্তাহে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে বেড়েছিল ২০১টির, কমেছিল ১০৯টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২০টির দাম। এতে সিএসইর প্রধান সূচক ৬৬ পয়েন্ট বেড়ে ১৮ হাজার ৬৩৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

Facebook Comments