fbpx

বাংলা কনটেন্টের রাজধানী হওয়ার স্বপ্ন চলমান লকডাউনও দমাতে পারেনি চরকির যাত্রা

মহামারির প্রকোপে যখন দেশের চলচ্চিত্র শিল্প নাকাল, বন্ধ প্রেক্ষাগৃহের দ্বার, ঠিক তখনই বিশ্বজুড়ে বেড়ে যায় ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের কদর। বাংলাদেশেও জনপ্রিয় হতে থাকে দেশি-বিদেশি প্ল্যাটফর্ম ও কনটেন্টগুলো, ডালপালা ছড়িয়ে বাড়তে থাকে দেশের কনটেন্ট ইন্ডাস্ট্রি। আর এই বিস্তৃতির সহযাত্রী হতে চলে এলো চরকি। ঢাকাকে বাংলা কনটেন্টের রাজধানী হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার প্রত্যয় তাদের। তাই তো কোনো প্রতিবন্ধকতাই আমলে নেয়নি তারা। মহামারির ছোবলে দেশজুড়ে চলমান লকডাউন দমাতে পারেনি চরকির গতি।

গতকাল সোমবার রাত ৮টায় চরকির ফেসবুক পেজে ছিল বাংলাদেশি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম চরকির আত্মপ্রকাশের অনুষ্ঠান। স্বাগত বক্তব্যে চরকির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা, নির্মাতা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘দেশের স্ট্রিমিংয়ের অগ্রযাত্রার স্বপ্নকে বড় করে দেখার চেষ্টায় চরকি। পৃথিবীতে যত মেধাবী নির্মাতা, শিল্পী, কলাকুশলী আছেন; তাঁরা যা তৈরি করতে চান, যাঁরা আগ্রহ নিয়ে সেসব দেখতে চান, সবার মিলনক্ষেত্র হবে চরকি। বিশ্বের সামনে বাংলা কনটেন্টের রাজধানী হবে চরকি।’ এই স্বপ্নকে বড় রূপ দেওয়ার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান মিডিয়াস্টারকে।

চরকিকে ঘিরে বাংলা চলচ্চিত্র ও নাটকের দর্শকদের আগ্রহের কমতি নেই। চলতি বছরের শুরুতে চরকি জানিয়েছিল তাদের একটি প্রতিশ্রুতির কথা। বলা হয়েছিল, ১২ মাসে ১২টি সিনেমা মুক্তি দেবে তারা। সেই থেকে শুরু হয় দর্শকদের অপেক্ষা। চরকির সামাজিক যোগাযগমাধ্যমের পাতাগুলো ভরে যেতে থাকলো দর্শকের বার্তা ও শুভকামনায়। অনেক দর্শক চরকির যাত্রা শুরুর সময়ক্ষেপন নিয়ে মন খারাপও করতো। কিন্তু চরকির সঙ্গ ছাড়তো না তারা। তাই চরকিও তার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যায়নি। ফিল্ম… ফান… ফূর্তির পসরা সাজিয়ে তারা দর্শকের সামনে হাজির।

চমকজাগানো ব্যতিক্রমী এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটিতে নানা ভূমিকায় দেখা দেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান, জানিয়ে দেন কী আছে চরকিতে। তাঁর দেওয়া আভাসের রেশ ধরে দেখানো হয় চরকির নিজস্ব প্রযোজনায় নির্মিত ওয়েব সিরিজ, ফিল্ম, অ্যান্থলজি ছবি, স্বল্পদৈর্ঘ্যের ট্রেলার। এসব ছাড়াও থাকবে বাংলায় ডাব করা ইরানি সিনেমা, বাংলা সাবটাইটেলে তুর্কি সিনেমা। গতকাল থেকেই চরকির ওয়েবসাইট ও অ্যাপে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয় সেসব।

চরকির প্রিমিয়াম কনটেন্ট উপভোগের জন্য দশর্ককে কিনতে হবে নির্দিষ্ট সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান। এক বছর ও ছয় মাসের এই প্যাকেজ বিকাশ, নগদ, রকেটের মতো যেকোনো মোবাইল ওয়ালেট দিয়ে কেনা যাবে। দেশ-বিদেশের দর্শকেরা ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড দিয়েও প্যাকেজগুলো কিনতে পারবেন। প্যাকেজ কিনলে দর্শক একসঙ্গে পাবেন অনেক সুযোগ। এ ছাড়া চরকিতে থাকছে অনেক ফ্রি কনটেন্ট। যেসবের মধ্যে রয়েছে কালজয়ী ও স্বর্ণালি যুগের সিনেমা, জনপ্রিয় নাটক, মেরিল–প্রথম আলো পুরস্কার অনুষ্ঠান, মজার সব শো; যা দেখা যাবে বিনা মূল্যে। থাকবে কিছু পুরোনো তথ্যচিত্র, যেখানে পাওয়া যাবে সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, এ আর রাহমানের মতো গুণীদের জীবন ও কর্মকথা।

চরকির আত্মপ্রকাশকে অভিনন্দিত করেছেন সংস্কৃতি ও বিনোদন অঙ্গনের সুধীজনেরা। কেউ কেউ নিজ বাড়িতে কেক কেটে চরকি টিমকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। কেউ করেছেন ফেসবুক লাইভ, কেউ পোস্ট করেছেন ছবি ও ভিডিও। তাঁদের প্রত্যেকেরই প্রত্যাশা, সুস্থ ও মানসম্মত বিনোদনের জন্য চরকি হবে বাংলা ভাষীদের প্রিয় মাধ্যম।

 

Facebook Comments