fbpx

শিশুর গলাব্যথায় করণীয়-

শিশুদের নানা রোগ দেখা দিচ্ছে ঋতুর পরিবর্তনের কারণে । ঘরে ঘরে শিশুদের জ্বর-শর্দি লেগেই আছে। জ্বরের সঙ্গে অনেক শিশুর গলাব্যথাও দেখা দিচ্ছে। মূলত টনসিল ও মুখ গহ্বরের রোগের কারণে শিশুদের গলাব্যথা হয়ে থাকে।

পাঁচ থেকে আট বছর বয়সী শিশুরা এ সমস্যায় সাধারণত বেশি ভোগে। বর্ষা শেষে বা শীতকালে গলাব্যথা বাড়তে পারে। ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসজনিত সংক্রমণের কারণে প্রদাহ হয়। ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে দায়ী জীবাণু হলো গ্রুপ-এ বিটা হিমোলাইটিক স্ট্রেপটোকক্কাস। এটি সংক্রামক। লালা বা শ্লেষ্মার মাধ্যমে ছড়ায়।

চিকিৎসকরা বলেন, শিশুদের যত অপারেশন হয় তার মধ্যে টনসিলে অপারেশন প্রথম। টনসিলাইটিস সাধারণত স্ট্রেপট্রোকক্কাস নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়ে থাকে। আরও কিছু ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণেও হতে পারে টনসিলাইটিস। গলায় ক্ষত বা গলাব্যথা টনসিলাইটিসের প্রথমদিকের লক্ষণ।

করণীয়-
অ্যাকিউট টনসিলাইটিস হলে অ্যান্টিবায়োটিক যেমন এজিথ্রোমাইসিন, সেফিক্সিম সেবন করতে হবে। জ্বর ও ব্যথার জন্য শিশুকে প্যারাসিটামল সেবন করতে হবে। কিন্তু শিশুদের অ্যাসপিরিন সেবন করতে দেবেন না। এতে শিশুর অন্য অসুখ হতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শে যথাযথ অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে।

এ সময় শিশুকে যথেষ্ট পানি ও তরল খাবার দিন। শিশুর ঢোক গিলতে বা শ্বাসপ্রশ্বাসে কষ্ট হলে, লালা ঝরলে বা শরীরে অতিরিক্ত তাপমাত্রা (১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি) ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বজায় থাকলে অনতিবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

শিশুকে গরম পানি গড়গড়া করান। খেয়াল রাখতে হবে, শিশুর যেন ঠাণ্ডা না লাগে। প্রচুর পরিমাণে ফলের জুস পান করতে দিন। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খেতে দিন। শিশুকে কুসুম গরম পানিতে মধু ও লেবু মিশিয়ে পান করতে দিন। শিশুকে পুষ্টিকর খাবার বেশি করে খেতে দিন। ছয় বছরের বেশি বয়সী শিশুকে মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে দিন। এতে করে মুখের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হবে। খুব কম বয়সী শিশুদের মাউথওয়াশ ব্যবহার করাবেন না। শিশু গিলে ফেললে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

 

Facebook Comments