fbpx

মহামারীর মধ্যে ঘরবন্দি শিশুদের বিশেষ নজরে রাখার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে ঘরবন্দি শিশুদের বিশেষ নজরে রাখার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও শিশুরা যেন ঘরে বসে পড়া চালিয়ে যায় এবং তারা যে কাজে পারদর্শী, সেই কাজে ব্যস্ত রাখা হয় সেদিকে বিশেষ নজর রাখুন। আজ রবিবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে তার সর্বকনিষ্ঠ ভাই শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণ করেন বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে শেখ হাসিনা। ছোট ভাই শেখ রাসেলের প্রতিভা, অসীম সম্ভবনা এবং তার নির্মম মৃত্যুর কথা স্মৃতিচারণ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী একটি ফুল কুঁড়িতেই শেষ হয়ে গেল, রাসেল আর ফুঁটতে পারেনি। তিনি বলেন, আজ রাসেলের জন্মদিন। ১৯৬৪ সালে রাসেলের জন্ম হয়েছিল। কিন্তু তার জীবনটা শেষ হয়ে যায়, একটি ফুল কুঁড়িতেই শেষ হয়ে যায়, রাসেল আর ফুটতে পারেনি। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে তাকে নির্মমভাবে চিরবিদায় নিতে হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের শিশুরা দেশপ্রেমিক হবে, মানুষের মত মানুষ হবে, মানুষের সেবা করবে এবং নিজেদেরকে উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে, আধুনিক শিক্ষায় সুশিক্ষিত হবে। আমি জানি করোনাভাইরাসের কারণে স্কুল বন্ধ। এটা সত্যিই যেকোন শিশুর জন্য খুব কষ্টকর। কিন্তু হয়তো এই রকম অস্বাভাবিক অবস্থা থাকবে না। তিনি বলেন, তবুও আমি তাদেরকে বলব মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে। যাই হোক, ঘরে বসে পড়াশোনা করা এবং সেই সাথে সাথে নিজেদের.. যা.. কেউ আর্ট করতে পারে, কেউ খেলাধুলা করতে পারে। যে যতটুকু পারে সেইটুকু তাদের করতে হবে এবং সেভাবে নিজেদেরকে ব্যস্ত রাখতে হবে। যখন স্কুল খুলবে তখন যেন তারা আবার ভালোভাবে স্কুলে যেতে পারে, পড়াশোনা করতে পারে সেদিকে বিশেষভাবে সবাইকে নজর রাখতে হবে।

অভিভাবকদের অনুরোধ করে শেখ হাসিনা বলেন, যার যার নিজের ছেলেমেয়েকে অন্ততৃলেখাপড়ার দিকে মনোযোগ দেয়ার পাশপাশি তাদের একটু খেলাধুলা বা তারা যেন এক্সারসাইজ করতে পারে, সেই ব্যবস্থাটা আপনারা নেবেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলারও নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, আমি হয়ত মাস্কটা পরে কথা বলছি না, কারণ আমার এখানে কেউ নাই আশেপাশে, আমি একাই আছি। যারা আছেন, অনেক দূরে। সেইজন্য আমার এটা সুবিধা আছে। কিন্তু যেখানে বেশি লোক সেখানে আমিও নিজে সব সময় মাস্ক পরে থাকি। সবাইকে আমি বলব, যেখানেই বেশি লোক সমাগম সবাইকে মাস্ক পরে থাকতে হবে এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সবাইকে মেনে চলতে হবে, শরীরের প্রতি যত্ন নিতে হবে।

আওয়ামী লীগ সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছে বলে মহামারীর মধ্যেও শেখ রাসেলের জন্মদিনের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া সম্ভব হয়েছে জানিয়ে অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত থাকতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এই সময় ছোট ভাই শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণও করেন তিনি। অনুষ্ঠানে গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভিডিও কনফারেন্সে ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজ প্রাঙ্গণ প্রান্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র প্রান্তে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান রকিবুর রহমান, সংগঠনটির মহাসচিব ও সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ঢাকার শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্স প্রান্ত থেকে শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষ্যে বক্তব্য দেয় ৮ বছরের নীলকাব্য।

প্রধানমন্ত্রী আজ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আরও কিছু অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। সেগুলো হল- শহিদ শেখ রাসেল- এনিমেটেড ডকুমেন্টারি ‘বুবুর দেশ’ প্রদর্শনীর উদ্বোধন, শেখ রাসেলের জীবনীর ‘শেখ রাসেল আমাদের আবেগ, আমাদের ভালবাসা’ এর মোড়ক উন্মোচন ও ছবি প্রদর্শনীর উদ্বোধন, ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে শেখ রাসেল এর ম্যুরাল উন্মোচন ও ‘শহিদ শেখ রাসেল ভবন’ উদ্বোধন, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের কার্যক্রম সংক্রান্ত ভিডিও চিত্র অবলোকন, স্মৃতির পাতায় শেখ রাসেল শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের পুরস্কার বিতরণ, শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ এবং দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ল্যাপটপ বিতরণসহ অন্যান্য কার্যক্রম।

Facebook Comments