fbpx

চুলের রং থেকে ক্যান্সারের ঝুঁকি

পাকা চুল ঢাকতে বা সৌন্দর্য বাড়াতে অনেকেই চুলে স্থায়ী রং করেন। স্বাস্থ্য-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের করা এক গবেষণার আলোকে জানানো হয় এই রং নানান স্বাস্থ্য ঝুঁকি যেমন- স্তন, ডিম্বাশয় ও ত্বকের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।

চুলে রং করা খুবই সাধারণ ঘটনা। বিশেষত বয়সের কারণে যাদের চুল অনেকটাই পেকে গেছে তাদের মধ্যে এটা বেশি দেখা যায়।

চুলে রংয়ের কারণে ক্যান্সারের ঝুঁকি সম্পর্কে ভালোভাবে বুঝতে গবেষকরা ‘নার্সেস হেল্থ’ গবেষণা থেকে ১ লাখ ১৭ হাজার ২শ’ জন নারীর তথ্য বিশ্লেষণ করেন। এদের কারোরই ক্যান্সারের কোনো ইতিহাস ছিল না। তারা সবাই ৩৬ বছরের ওপরে। স্থায়ী রং করার সঙ্গে ত্বকের নিচে ক্যান্সার সৃষ্টির কোষ তৈরির সম্পর্ক পাওয়া যায়।

গবেষণা থেকে তিন ধরনের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি সম্পর্কে জানা যায়- ‘ইস্ট্রোজেন রিসিপ্টর-নেগেটিভ’, ‘প্রোজেস্টেরন রিসিপটর-নেগেটিভ’ এবং ‘হরমোন রিসিপটর-নেগেটিভ’।

এছাড়াও ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারও এর সঙ্গে সংযুক্ত। ঘন ঘন চুলে রং করার সঙ্গেও এর ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

প্রাকৃতিকভাবে কালো চুলে অন্যান্য স্থায়ী রং ব্যবহারের সঙ্গে ‘হজকিন লিম্ফোমা’ বা রক্তের বিশেষ ধরনের শ্বেত কণিকা থেকে হওয়া ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে বলে জানা যায়।

গাঢ় রংগুলোর ঘনত্বও বেশি।

ঝুঁকি কমাতে ঘরে প্রাকৃতিক কিছু উপাদান ব্যবহার করে চুল রং করতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রেও খানিকটা সাবধানতা অবলম্বন করা ভালো।

– উল্লেখিত সময়ের বেশি মাথায় ডাই রাখা যাবে না।

– ডাই ধুতে ভালো মতো পানি ব্যবহার করতে হবে।

– ডাই ব্যবহারের সময় অবশ্যই গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে।

– নির্দেশাবলীতে উল্লেখ করা না থাকলে কখনই দুই উপাদান একসঙ্গে মেশাবেন না।

– পণ্য ব্যবহারের আগে অবশ্যই ভালো মতো নিয়মাবলী পড়ে নিবেন।

চুলের রংয়ের সবচেয়ে ক্ষতিকারক উপাদান হল অ্যামোনিয়া, পারক্সাইড, পি-ফেনেলিনডাইলিন, ডায়ামিনোবেঞ্জিন, টলুইন-টু, ফাইভ-ডায়ামিন এবং রিজোরসিনোল। এসব উপাদান ত্বক, চোখ ও ফুসফুসের মারাত্মক জ্বালাপোড়ার কারণ হতে পারে। এই রাসায়নিক উপাদানগুলো মাথার ত্বকে ফোস্কা ফেলা, পুড়িয়ে ফেলা, চুল পড়া এমনকি ক্যান্সার হওয়ার কারণ হতে পারে।

 

Facebook Comments