fbpx

শুটিংয়ে ফিরতে প্রস্তুত ফেরদৌস-পূর্ণিমা

প্রায় ছয় মাস ধরে শুটিংয়ে নেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনয়শিল্পী ফেরদৌস ও পূর্ণিমা। ফলে তাদের বেশ কয়েকটি ছবির কাজ আটকে রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুলের ‘গাঙচিল’ ও ‘জ্যাম’ চলচ্চিত্র দুটি। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি থাকায় এতদিন ঘরবন্দি থাকলেও সম্প্রতি তারা একসঙ্গে কাজে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুটিং হলে শিগগিরই ‘গাঙচিল’ সিনেমা দিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে পারেন জনপ্রিয় এই জুটি।

ওবায়দুল কাদেরের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে ‘গাঙচিল’ চলচ্চিত্রটি। অবশ্য শুটিং শেষ না হলেও সিনেমাটির পোস্টার অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয় চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা বলেন, ‘লকডাউনের মধ্যে আমি একদমই ঘর থেকে বের হয়নি। নিজের কথা এবং পরিবার ও সন্তানের কথা মাথায় রেখে কোনো ধরনের শুটিংয়ে অংশ নেইনি। এখনতো অনেক কিছুই স্বাভাবিকভাবে চলছে। তবে দেখতে স্বাভাবিক মনে হলেও সার্বিক অবস্থা ভালো নয়। ফলে এখনো স্বতঃস্ফূর্তভাবে শুটিং করার পরিবেশ তৈরি হয়নি। এরপরও কেউ যদি পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করতে পারে তাহলে আমার শুটিং করতে আপত্তি নেই। তাছাড়া ‘গাঙচিল’ ছবির কাজটা শেষ করা জরুরি। যদি কাজ করি তবে ‘গাঙচিল’ দিয়েই শুরু করব।’

করোনায় ঘরবন্দি থাকার প্রসঙ্গ টেনে এই অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘চলচ্চিত্র শুটিং ছাড়া বিভিন্ন করপোরেট শো নিয়ে আমাকে ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে মেয়েকে সেভাবে সময় দিতে পারছিলাম না। তবে করোনার মধ্যে ঘরবন্দি থেকে ওকে সময় দিতে পারছি। পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারছি। কাজে যাওয়ার কোনো চিন্তা নেই। পুরো সময়টা আমি উপভোগই করছি।’

এদিকে, আগামী ১০ সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন সিনেমার শুটিং শুরু হতে যাচ্ছে। তার মধ্যে সুপারস্টার শাকিব খানের ‘নবাব এলএলবি’ অন্যতম। চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহী, অর্চিতা স্পশিয়া, পরীমনি ও সিয়াম আহমেদের মতো তারকারাও শুটিংয়ে ফিরেছেন। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন অব সুন্দরবন’ সিনেমার শুটিং। সেই ধারাবাহিকায় ‘গাঙচিল’ সিনেমার সংশ্লিষ্টরাও শুটিং করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কবে নাগাদ শুটিং শুরু হবে সে বিষয় নিশ্চিত না হলেও দ্রম্নতই ফিরছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

চিত্রনায়ক ফেরদৌসের ভাষ্যমতে, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ হলে করব। যদি শুটিং-এ ফিরি তাহলে ‘গাঙচিল’ দিয়েই ফিরব। কারণ এই সিনেমার কাজটি দ্রম্নত শেষ করে দর্শকের সামনে নিয়ে আসা উচিত বলে আমি মনে করি।’

সংক্রমণ ঝুঁকির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ খ্যাত এই নায়ক আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুটিং না হলে এই করোনার মধ্যে কোনোভাবেই কাজ করা সম্ভব নয়। গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকজন পরিচালক সিনেমায় কাজ করার জন্য যোগাযোগ করছেন। আমার পরিবারের কথা চিন্তা করে শুটিং করিনি। অনেকেই বলছেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুটিং-এ যাবেন তারা। কিন্তু আদৌ কী স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুটিং করা যায়? তারা আমাকে সন্তুষ্ট করতে পারেননি। তবে নাটকের শুটিংয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেউ কেউ করছেন। আবার করোনায় আক্রান্ত হবারও খবর পাচ্ছি। মূল কথা আমি মনে করি পরিবার আমার কাছে সবার আগে। পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটা জরুরি। কারণ আমার স্ত্রী, আমার দুই মেয়ের কথা ভাবতেই হবে। বাইরে গিয়ে শুটিং করে আমাকে বাসাতেই ফিরতে হবে। তাই সবদিক ভেবে-চিন্তেই কাজে ফিরতে চাই।’

Facebook Comments