fbpx

অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভাইবারের নজরকাড়া প্রবৃদ্ধি

কভিড১৯ বৈশ্বিক মহামারী বিভিন্ন খাতে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করেছে। অর্থনীতি কিছুটা সচল হতে শুরু করলেও অনেক খাতে মহামারীর ক্ষতির পরিমাণ অপূরণীয় ও দীর্ঘস্থায়ী। এ সংকটপূর্ণ সময়ের মধ্যেও কিছু প্রতিষ্ঠান ইতিবাচক ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে রাকুতেন ভাইবার। চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) রাকুতেন ভাইবার বাংলাদেশে ও এশিয়া প্যাসিফিকে নজরকাড়া প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

ভাইবারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০১৯ সালের প্রথমার্ধের তুলনায় চলতি বছরের প্রথমার্ধে বাংলাদেশে ভাইবার ব্যবহার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময় অ্যাক্টিভেশন বৃদ্ধি পেয়েছে ১৭ শতাংশ, গ্রুপ মেসেজ পাঠানো বৃদ্ধি পেয়েছে ২১ শতাংশ এবং ওয়ান-টু ওয়ান মেসেজ আদান-প্রদান বৃদ্ধি পেয়েছে ২৫ শতাংশ। গ্রুপে পাঠানো মেসেজগুলোর সংখ্যাও ইতিবাচকভাবে বেড়েছে। যার প্রবৃদ্ধি ৪৮ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে কমিউনিটি ভিউর পরিমাণ বেড়েছে ৭৭ শতাংশের কিছু বেশি।

শুধু বাংলাদেশে নয়; ভাইবার ব্যবহার বেড়েছে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও। বিশেষ করে গ্রুপ ও কমিউনিটির মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে ২০১৯ সালের তুলনায় ভাইবার গ্রুপগুলোর মধ্যে বার্তা পাঠানোর সংখ্যা মিয়ানমারে ৪১ শতাংশ, নেপালে ৬৭ শতাংশ, শ্রীলংকায় ৯১ শতাংশ ও ভিয়েতনামে ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে কমিউনিটি এনগেজমেন্ট বেড়েছে। এক্ষেত্রে অধিকাংশ দেশগুলোতে কমিউনিটি ভিউর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। এর মধ্যে মিয়ানমারে ১০৬ শতাংশ এবং শ্রীলংকা ও নেপালে যথাক্রমে ১১৮ শতাংশ ও ১৯৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির মুখ দেখেছে সেবাটি। ফিলিপাইনেও কমিউনিটি এনগেজমেন্টের প্রবৃদ্ধিও বেড়েছে। এর মধ্যে কমিউনিটি ভিউয়ারের সংখ্যা বেড়েছে ২ দশমিক ৫ গুণ এবং কমিউনিটিতে মেসেজ পাঠানো বৃদ্ধি পেয়েছে ২ দশমিক ৭ গুণ।

বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীদের উন্নত অভিজ্ঞতা দিতে চলতি বছরের বেশ কয়েকটি নতুন ফিচার যুক্ত করেছে ভাইবার  যেমন: মাই নোটস ফিচারটি ভাইবার ব্যবহারকারীকে প্রতিদিনের কার্যতালিকা তৈরি করা ছাড়াও নানা বিষয় এক জায়গায় করতে সাহায্য করবে। ব্যবহারকারীর হোম পেজে বার্থডে রিমাইন্ডার প্রদর্শিত হবে। ফলে ব্যবহারকারী বুঝতে পারবে তাদের তালিকায় থাকা কারা তাদের বিশেষ দিনটি উদযাপন করেছে। ‘ডিসঅ্যাপিয়ারিং মেসেজেস’ ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সংবেদনশীল টেক্সটের ক্ষেত্রে সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারবেন। অন্যদিকে জিআইএফ ক্রিয়েটর সহজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফোনের ভিডিওগুলোকে জিআইএফে পরিণত করে প্রত্যেকের অভ্যন্তরীণ সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর সুযোগ পাচ্ছেন।

কভিড১৯ বৈশ্বিক মহামারীর কারণে ঘরবন্দি মানুষের সুবিধার্থে মুখোমুখি যোগাযোগ এড়াতে ভাইবার গ্রুপ কলে সর্বোচ্চসংখ্যক অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা দ্বিগুণ করেছে। এখন সেবাটির মাধ্যমে ২০ জন একসঙ্গে গ্রুপ ভিডিও এবং অডিও কলে অংশ নিতে পারছেন। ব্যবহারকারীদের কমিউনিটিগুলোর বার্তায় প্রতিক্রিয়া দেখানোর অনুমতি দিয়েছে ভাইবার, যা অনলাইন যোগাযোগকে করেছে আরো প্রাণবন্ত। ইউনিসেফ বাংলাদেশ কমিউনিটি চলমান মহামারীর বিরুদ্ধে কীভাবে লড়াই করতে হবে সে সম্পর্কে ভাইবারে নিয়মিত টিপস পোস্ট করতে একটি কমিউনিটি চালু করেছে। পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জন্য বিশেষ চ্যাটবট চালু করেছে ভাইবার।

চ্যাটবটটির মাধ্যমে ডব্লিউএইচওর ওয়েবসাইট থেকে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রান্ত হালনাগাদ ও সঠিক তথ্য সবার কাছে পৌঁছে যাচ্ছে মেসেজিং অ্যাপে নভেল করোনাভাইরাস নিয়ে জানতে চাওয়া মানুষের প্রশ্নগুলোর উত্তরও প্রদান করা হচ্ছে।

ভাইবারের চিফ গ্রোথ অফিসার আনা জামেনস্কায়া বলেন, বাংলাদেশের বাজার ও এখানকার গ্রাহকরা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ  বিগত বছরগুলোতে আমরা লক্ষ্য করেছি কীভাবে বাংলাদেশের মানুষ তাদের পছন্দের কমিউনিকেশন প্লাটফর্ম হিসেবে ভাইবারকে গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ ও এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে ভাইবারের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি এটাই প্রমাণ করে, সামাজিক দূরত্বের বিধি থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তা ও সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মানুষ একে অন্যের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় রাখতে পেরেছে।

 

Facebook Comments