fbpx

তিন মাসে মোবাইল সংযোগ কমেছে

মোবাইল ফোনের সংযোগের সংখ্যা কমছে। দেশে করোনা ভাইরাসের প্রভাব শুরুর পরে মোবাইল খাতে এই সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে। গত তিন মাসে দেশে মোবাইল সংযোগ কমেছে প্রায় ৫০ লাখ। মোবাইলফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটবও বিষয়টি স্বীকার করেছে।

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির নিয়মিত মাসিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মে মাসে দেশে মোবাইল সংযোগের সংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ১৫ লাখ ৬ হাজার। লকডাউন শুরুর আগে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির শেষে সংযোগ সংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৬১ লাখ ১৪ হাজার। সেই হিসাবে মার্চ, এপ্রিল ও মে এই তিন মাসে সংযোগ সংখ্যা কমেছে ৪৬ লাখ ৮ হাজার। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মার্চে মোবাইল সংযোগ ছিল ১৬ কোটি ৫৩ লাখ ৩৭ হাজারটি। আর এপ্রিলে ছিল ১৬ কোটি ২৯ লাখ ২০ হাজার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেলফোন এখন সব ধরনের ব্যবসা, শিক্ষা, বিনোদন ইত্যাদির প্রাথমিক যোগাযোগের মাধ্যমে হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারপরও গত ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ থেকেই গ্রাহক সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। দেশের অন্যান্য ব্যবসা যখন প্রভাবিত হয় তখন তা মোবাইল খাতকেও প্রভাবিত করে, এমনটাই মনে করছেন তারা। বিশেষ করে লকডাউনের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষেরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। খুচরা দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক গ্রাহক রিচার্জ পয়েন্টে যেতে পারছেন না। এমন নানা বাধার কারণে একদিকে নতুন গ্রাহক যুক্ত হচ্ছেন না, পাশাপাশি অনেক গ্রাহক নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছেন। আবার যারা একাধিক সিম ব্যবহার করতেন খরচ কমাতে শুধু জরুরি যোগাযোগের সিমটিই ব্যবহার করছেন।

এ বিষয়ে অ্যামটবের মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এস এম ফরহাদ বলেন, ‘এ বছরের শুরু থেকে মোবাইল গ্রাহক কমে আসার বিষয়টা লক্ষ্য করছি আমরা। আরও সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে ফেব্রুয়ারি থেকে গ্রাহক সংখ্যা কমতে থাকে। করোনার বিরূপ প্রভাবের কারণে এটা হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। আসলে দেশের সব ব্যবসায়িক খাতের মতো মোবাইল খাতের নিম্নগতির কথা বলে আসছি আমরা। যদিও মোবাইল এখন সব ধরনের ব্যবসা, শিক্ষা, বিনোদন ইত্যাদির প্রাথমিক যোগাযোগ মেটায় তবে অন্যান্য ব্যবসা যখন প্রভাবিত হয় তখন তা মোবাইল খাতকেও প্রভাবিত করে।’

তিনি আরও বলেন, আয়ের নিম্ন সারিতে থাকা মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাছাড়া লকডাউনের কারণে অনেক খুচরা দোকান বন্ধ হয়ে গেছে এবং গ্রাহকরা রিচার্জ পয়েন্টগুলোতে যেতে পারছে না। এর প্রভাব পড়াও স্বাভাবিক। এসব কারণে একদিকে যেমন নতুন গ্রাহক যুক্ত হচ্ছেন না তেমন অনেকে আবার হয়তো ইনঅ্যাক্টিভ (নিষ্ক্রিয়) হয়ে গেছেন।

সে হিসাবে দেখা গেছে, গত তিন মাসে অপারেটরগুলোর ২ লাখ ৮ হাজার গ্রাহক কমেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহারকারীরর সংখ্যা ছিল ৯ কোটি ৪২ লাখ ৩৬ হাজার। মার্চে লকডাউনের সময় তা বেড়ে হয় ৯ কোটি ৫১ লাখ ৬৮ হাজার। এপ্রিলে প্রায় প্রায় ২০ লাখ গ্রাহক কমে তা দাঁড়ায় ৯ কোটি ৩১ লাখ ১ হাজারে। মে মাসে গ্রাহক কিছু বাড়ে। এ মাসে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯ কোটি ৪০ লাখ ২৮ হাজার। ফেব্রুয়ারি মাসে মোবাইল গ্রাহকের তুলনায় মে মাসে এসে কমেছে ২ লাখ ৮ হাজার গ্রাহক। মার্চ ও এপ্রিল মাসে গ্রাহক সংখ্যা ওঠানামা করেছে।

প্রসঙ্গত, কোনও গ্রাহক বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি (আঙুলের ছাপ) ব্যবহার মোবাইল সিম কিনে ৯০ দিনের মধ্যে যদি একবারও ভয়েস, ডাটা (ইন্টারনেট ব্যবহার) ও এসএমএস করে থাকে তাহলে একজন গ্রাহক হিসেবে গণনা করে।

Facebook Comments