fbpx

হজ নিবন্ধন বাতিলের আবেদন শুরু ১৯ জুলাই

আগামী ১৯ জুলাই (২৮ জিলকদ) থেকে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। চলবে ২ আগস্ট (১৩ জিলহজ) পর্যন্ত। তবে করোনাভাইরাসের কারণে এবার বর্হিবিশ্বের কেউ হজে অংশ নিতে পারবেন না।

এদিকে হজ পালনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় বাংদেশের নিবন্ধন বাতিলের সময়সূচি নির্ধারণ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। আর কেউ নিবন্ধন বাতিল না করলে তার নিবন্ধন ২০২১ সালের জন্য কার্যকর থাকবে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগ রবিবার (১২ জুলাই) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের কারণে এবছর অন্য দেশ থেকে কোনো হজযাত্রী হজ পালন করতে সৌদি আরব যেতে পারবে না। সৌদি আরবে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের নাগরিক ও সৌদি আরবের নাগরিকদের অংশগ্রহণে সীমিত পরিসরে হজ অনুষ্ঠিত হবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালে বাংলাদেশ থেকে হজ পালনের জন্য প্রাক-নিবন্ধিত ও নিবন্ধিত ব্যক্তিদের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় নিম্নোক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে:

২০২০ সালে হজ পালনের জন্য যাদের প্রাক-নিবন্ধনের মেয়াদ বৈধ ছিল, তা ২০২১ সালের জন্য বলবৎ থাকবে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যস্থাপনার যেসব প্রাক-নিবন্ধিত ব্যক্তি ২০২০ সালের হজের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন তাদের নিবন্ধন ২০২১ সালের জন্য বৈধ থাকবে। নিবন্ধনকারী হজযাত্রীদের জমা টাকা ২০২১ সালের প্যাকেজ মূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

২০২০ সালের হজযাত্রী নিবন্ধন বাতিল বিষয়ে ই-হজ সিস্টেমের উপর সব ব্যাংকের প্রতিনিধি, নিবন্ধন কেন্দ্রের প্রতিনিধি এবং হজযাত্রী নিবন্ধনকারী এজেন্সির প্রতিনিধিদের ১৩ জুলাই থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। হজ পালনের জন্য সরকারি-বেসকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধিত কোনো হজযাত্রী নিবন্ধন বাতিল করতে চাইলে আগামী ১৯ জুলাই থেকে হজ পোর্টাল www.hail.gov.bd অথবা https://prp.pilgrimbd.org/hajrefund লিংকে নিজে বা নিবন্ধন কেন্দ্র থেকে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন অনুমোদিত হলে তার অনুকূলে নিবন্ধন বাতিল ভাউচার তৈরি হবে এবং ২০২০ সালের নিবন্ধন ও প্রাক-নিবন্ধন উভয়ে বাতিল হবে। ভবিষ্যতে হজে যেতে চাইলে তাকে নতুনভাবে প্রাক-নিবন্ধন ও নিবন্ধন করতে হবে।

সরকারি ব্যবস্থাপনার হজ নিবন্ধন বাতিলকারী ব্যক্তির ক্ষেত্রে সোনালী ব্যাংক থেকে প্রাক-নিবন্ধন ও নিবন্ধনের জন্য জমা সমুদয় অর্থ অনলাইনে সরাসরি হজযাত্রীর অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হবে। কোনো হজযাত্রীর ব্যাংক হিসাব না থাকলে তার ইচ্ছানুযায়ী পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে। এজন্য তাকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে নিবন্ধন বাতিল ভাউচার ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে নিবন্ধনের জন্য জমা সমুদয় অর্থ হজযাত্রীর ইচ্ছানুযায়ী সরাসরি নিবন্ধনকারী ব্যাংক থেকে অনলাইনে হজযাত্রীর অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর অথবা এজেন্সির মাধ্যমে দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে প্রাক-নিবন্ধনের জন্য জমা অর্থ আগের মতো পরিচালক, হজ অফিস, ঢাকা থেকে হজযাত্রীর ইচ্ছানুযায়ী সরাসরি তাকে অথবা এজেন্সির মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হবে।

নিবন্ধিত হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে নিবন্ধনের সময় জমা অর্থ কোনো অবস্থাতেই এ পর্যায়ে হজ কার্যক্রম বাবদ বাংলাদেশে ব্যয় করা যাবে না এবং সৌদি আরবেও প্রেরণ করা যাবে না। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ব্যতীত কোনো এজেন্সি ব্যাংক থেকে এ টাকা উত্তোলন করতে পারবে না। ২০২০ সালে নিবন্ধনকারী হজযাত্রীদের জমা টাকা ২০২১ সালের প্যাকেজমূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। ২০২০ সালে নিবন্ধনকারী হজযাত্রীদের জমাকৃত টাকা যেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ব্যতীত কোনো এজেন্সি উত্তোলন করতে না পারে সে ব্যাপারে হজযাত্রী নিবন্ধকারী সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপকগণকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো। ব্যাংক কর্মকর্তারা হজ নিবন্ধন বাতিলকারীর অর্থ ছাড় করার আগে হজযাত্রীদের পরিচয়পত্রের সঙ্গে ভাউচারের তথ্য নিশ্চিত করে নেবেন।

এছাড়া ইসলামের পবিত্র নিদর্শন কাবাও স্পর্শ করা যাবে না এবারের হজে। নামাজের সময় তো বটেই, কাবা শরিফ তাওয়াফের সময়ও দেড় মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে হাজিদের মধ্যে। এই সময়ে হাজি ও আয়োজকদের প্রত্যেককে সব সময়ের জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক।

Facebook Comments